এই সময়ে
যখন ঘরে ঘরে আলো জ্বলে,থেমে যায় পাখির ডানা মেলা,বহে সন্ধ্যার ঝিরিঝিরি হাওয়া তখন থেমে যাই আমি।
জানালার গ্রিলে ঠেকিয়ে মাথা মানুষ দেখি।কত রকম মানুষ,মায়ার মানুষ,মিছে মানুষ,প্রেমের মানুষ।
মানুষ সত্যি কি মানুষ! মানুষগুলোকে ডাকি না আমি,শুধু দেখি তারা হেঁটে চলে এ ঘর থেকে ও ঘর।
খেয়ালের খেয়ায় ভেসে চলা মানুষ,অন্ধকারের রঙীন মানুষ।
হাসি খেলার মিলন মেলার মহোৎসব,খুলে মুক্তার মালা কন্ঠ হতে ছুটে চলা মানুষ স্পন্দনের টানে।কেউ জানেনা
কি সুখে থেমে যায় পাখির ডানামেলা,কি সুখে সন্ধ্যায় বহে ঝিরিঝিরি হাওয়া।
কেউ জানে না এক নিমিষে কুয়াশার মালা জড়িয়েছি হৃদয়ে,কেউ জানে না গল্প এখন ফুলের দামে জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে।
জানালার গ্রিলে ঠেকিয়ে মাথা মানুষ দেখি।কত রকম মানুষ,মায়ার মানুষ,মিছে মানুষ,প্রেমের মানুষ।
মানুষ সত্যি কি মানুষ! মানুষগুলোকে ডাকি না আমি,শুধু দেখি তারা হেঁটে চলে এ ঘর থেকে ও ঘর।
খেয়ালের খেয়ায় ভেসে চলা মানুষ,অন্ধকারের রঙীন মানুষ।
হাসি খেলার মিলন মেলার মহোৎসব,খুলে মুক্তার মালা কন্ঠ হতে ছুটে চলা মানুষ স্পন্দনের টানে।কেউ জানেনা
কি সুখে থেমে যায় পাখির ডানামেলা,কি সুখে সন্ধ্যায় বহে ঝিরিঝিরি হাওয়া।
কেউ জানে না এক নিমিষে কুয়াশার মালা জড়িয়েছি হৃদয়ে,কেউ জানে না গল্প এখন ফুলের দামে জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে।
মানুষ দেখি দুঃখ পেয়ে হেসে উঠা মানুষ,কষ্ট পেয়ে হেসে উঠা মানুষ,সুখ পেয়ে কেঁদে উঠা মানুষ,হাসির আঁড়ালে কান্না লুকানো মানুষ।
কষ্টগুলো আজ উল্টো হয়ে ঝুলে আছে বাদুরের মতন বট বৃক্ষে লাল লাল ফল হয়ে ঝরে পড়ে থাকে মাটিতে।
সুখগুলো আজ জেগে উঠা নতুন চর
জেগে উঠতে উঠতে ডুবে যায় জলে।
জেগে উঠতে উঠতে ডুবে যায় জলে।
ধূমকেতুর মত হঠাৎ চলে যায়-বুঝতে না বুঝতে
বুঝে যাই ওটায় সুখ !
বুঝে যাই ওটায় সুখ !
আমি শুধু বুঝিনা মানুষ-কেমন করে দুঃখ পেলে কাঁদে,কেমন করে হাসিতে লুকায়,কেমন করে হেঁটে যায় এ ঘর থেকে ও ঘর।
মানুষের ভিড়ে আমি মানুষ খুঁজি, সত্যের মানুষ,সাদা মানুষ,রঙীন মানুষ,মানুষ দেখি।
মানুষগুলোকে মানুষ ভেবে কথা বলতে গিয়ে থেমে যাই।
মানুষগুলো আরেকটা মানুষকে কি সাবলীলভাবে নিত্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হত্যা করছে।
মানুষগুলো আরেকটা মানুষকে কি সাবলীলভাবে নিত্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হত্যা করছে।
একদল মারছে অন্য আরেকদল মানুষকে।মরে যাচ্ছে নিরীহ মানুষ,মরে যাচ্ছে ভীত মানুষ,মরে যাচ্ছে সাহসী মানুষ।তবুও তারা মানুষ তো।যে যেমন মানুষই হোক না কেন কেউ কি মরতে চায়,মরে যাবার আগ মুহূর্তে মানুষ চায় খুব করে আরো একটু বেঁচে থাকতে।
বেঁচে থাকার জন্য শেষ চেষ্টা টুকু করে।সেই সময়ে এলোমেলো হয়ে মনে পড়ে হয়ত একটি নীল ফুল।
একটি লাল জামা।একটি শিশুর অবুঝ কান্না কিংবা অন্ধকার মাটির ঘরের নিস্তব্ধতা।
একটি লাল জামা।একটি শিশুর অবুঝ কান্না কিংবা অন্ধকার মাটির ঘরের নিস্তব্ধতা।
এভাবেই কেটে যায় সময়।পার করে জীবনের অন্তিম মুহূর্ত।
আলো আঁধারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে আতংকগ্রস্ত দুটি মানুষ, একটি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা একটি কুকুর।
আলো আঁধারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে আতংকগ্রস্ত দুটি মানুষ, একটি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা একটি কুকুর।
ঘরের মাঝে স্বল্প আলো।শিশুটি মায়ের কোলে ঘুমুচ্ছে নির্ভরতায়.খুটখুট শব্দ ভেসে আসে কোথা থেকে যেন!
হঠাৎ একদল পায়ের শব্দ।আহাজারি।
হঠাৎ একদল পায়ের শব্দ।আহাজারি।
অন্তঃসত্ত্বা কুকুরের জেগে উঠা।ঘেউঘেউ করে ডেকে উঠা।ক্রমশ পায়ের শব্দ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে যেন।কুকুরের মুখ চেপে ধরে শান্ত হতে বলে
মেয়েটি।
কুকুরের চিৎকার থামানো যায় না।
ধুমধাম দরজায় লাথি।খোল দরজা।মেহেরু দরজা খোল, আমি আমি। দেরি করিস না।
গলার স্বর টা চেনা লাগলেও অচেনা শোনায় এই মাঝরাতে।সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে দরজা খুলে দেয়।
সামনে দাঁড়িয়ে রহিমা খালা।
হাতে ছোট্ট লাইট।"কই শিগগির বের হও, আয় আমার সাথে"।
মেয়েটি।
কুকুরের চিৎকার থামানো যায় না।
ধুমধাম দরজায় লাথি।খোল দরজা।মেহেরু দরজা খোল, আমি আমি। দেরি করিস না।
গলার স্বর টা চেনা লাগলেও অচেনা শোনায় এই মাঝরাতে।সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে দরজা খুলে দেয়।
সামনে দাঁড়িয়ে রহিমা খালা।
হাতে ছোট্ট লাইট।"কই শিগগির বের হও, আয় আমার সাথে"।
মেহেরু তার কোলের সন্তানকে কোলে নিয়ে নাজাতকে ডেকে তোলে।রহিমা খালার পিছু পিছু বের হয়ে যায়।বের হবার সময় দেঁয়ালে টিকটিকি ডেকে উঠে 'ঠিক ঠিক'।
পায়ের কাছ থেকে আরশোলা এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে।নিজেকে আরশোলার মত মনে হয়।মেহেরু পেছন ফিরে দেখে তার কুকুর টা তাকিয়ে আছে মুখের দিকে।
লেজ নাড়ায়,রহিমা খালা হাত ধরে টেনে আনতে আনতে ঝোপের আঁড়ালে বসতে কই।
লেজ নাড়ায়,রহিমা খালা হাত ধরে টেনে আনতে আনতে ঝোপের আঁড়ালে বসতে কই।
একটু বসার পর ভোলার মুখ টা ভেসে উঠে।কুকুরটার বাচ্চা হবার সময় হয়ে এসেছে।আজকাল এর মধ্যে বাচ্চা হবে।অথচ ওকে তো আনিনি।তবে ও বাড়ির ভেতরে নেই তো।মেহেরু উঠতে যায়,খালা হাত টান দিয়ে ধরেন,বলে ওই দ্যাখ।মেহেরু তাকিয়ে দেখে ওরা একে একে সব ঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে।চারিদিক আহাজারি।
চালিংপাড়ায় ছোট ছোট বন আর টিলা দিয়ে ঘেরা।তার মাঝে ছোট ছোট ঘর।বনের শেষে পশ্চিমপাশের দিকটায় মেহেরু আর রাজিনের ছোট্ট সংসার।নাজাত রাজিনের ছোট বোন।বাবা মা নেই।জীবন বলতে ওই তিনজন।পেশায় একজন খাবারের দোকানদার।
প্রতিদিন সন্ধ্যা হবার আগেই বাড়ি ফিরে রাজিন।ঘরে ফিরে তার প্রথম কাজ বউয়ের হাতের এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত খাওয়া।হোক শীত হোক গ্রীষ্ম তার শরবত চাই।"বুঝলা মেহেরু, শরবত খেলে শুধু পরাণডা জুড়ায় না,সেই সাথে জুড়ায় মাথাডাও"কথাটি বলে আর হো হো করে হেসে উঠে।মেহেরুর কাছে সে হাসি দৈত্যের মত লাগে,তবুও সে হাসি তার বড্ড ভালো লাগে।
আকাশ ভরা জ্যোৎস্না নামে যেদিন সেদিন রাজিন উঠানে মাদুর বিছিয়ে গান ধরে,আর কই "'ও বউ! এই দিকে আয়! তোর চুলডা আঁচড়ায় দেয়"।রাজিন মাথায় হাত বুলিয়ে, চুলে বিলি কেটে, তেল মাখিয়ে ওর চুল বেঁধে দেয়।মেহেরুর বুকের ভেতর থেকে ওঠে আসে পরম সুখের শ্বাস।রাজিনের সব কিছু ভালো লাগে মেহেরুর।
বাহিরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে,আকাশ যেন ফুটো হয়ে গেছে।পানি পড়ছে তো পড়ছে।থামছে না।বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে মেহেরুর সন্তান হবার ব্যথা যেন বেড়েই চলেছে।সকালের দিকে বৃষ্টি কমে আসে,ফজরের আযান দেবার সময়ে সন্তানের জন্ম হয়।এই দেশে তো আযান হয় না, তাই রাজিন ঘড়ি দেখে বুঝে এখন ফজরের সময়।
রাজিন তার সন্তানকে কোলে নিয়ে নাম দেয় বেলাল।
রাজিনের কোলে খুব অল্পকিছুদিন হাসি খেলায় মেতে উঠে বেলাল।তবে খেলাটা জমে উঠে না শুধু ওদের জন্য।ওরা কখনো'য় মুসলমানদেরকে মেনে নিতে পারিনি।বেঁচে থাকাটা শুধু নিঃশ্বাস আর প্রশ্বাসের মাঝে আটকা পড়ে আছে।এ কেমন বেঁচে থাকা জানিনা। বেঁচে থাকার তাগিদে সব সহ্য করে শুধু বেঁচে আছে।কোথাও কোন অধিকার নেই, আছে শুধু মুখ বুঁজে সহ্য করা সীমাহীন কষ্ট।
রাজিন তার সন্তানকে কোলে নিয়ে নাম দেয় বেলাল।
রাজিনের কোলে খুব অল্পকিছুদিন হাসি খেলায় মেতে উঠে বেলাল।তবে খেলাটা জমে উঠে না শুধু ওদের জন্য।ওরা কখনো'য় মুসলমানদেরকে মেনে নিতে পারিনি।বেঁচে থাকাটা শুধু নিঃশ্বাস আর প্রশ্বাসের মাঝে আটকা পড়ে আছে।এ কেমন বেঁচে থাকা জানিনা। বেঁচে থাকার তাগিদে সব সহ্য করে শুধু বেঁচে আছে।কোথাও কোন অধিকার নেই, আছে শুধু মুখ বুঁজে সহ্য করা সীমাহীন কষ্ট।
ঘটনার দিন রাজিন আর গুটি কয়েকজন মুসলমান লুকিয়ে একটা ঘরে নামায পড়ছিল।আর সেই নামাযের ইমামতি করছিল রাজিন।ওরা রাজিনকে সহ বাকী সবাইকে হাতে পায়ে দঁড়ি বেধেঁ টানতে টানতে নিয়ে যায়।শুধু মুসলমান হবার অপরাধে নির্যাতনের পর নির্যাতন করে উল্লাসে মেতে উঠে ওরা।অন্যান্যরা জেল হতে বের হতে পারলেও রাজিন আর বের হতে পারিনি।মেহেরু আর জানতে পারিনি রাজিন বেঁচে আছে কি নেই।তবুও সে বিশ্বাস করে রাজিন ফিরবে একদিন।
সকাল হয়ে এসেছে।গতকালের সেই তান্ডব লীলায় প্রশস্ত পথ জুড়ে শুধু পোড়া ধ্বংসস্তুপ আর মৃতদেহ।
গরু-ছাগলের।কুকুরের।মানুষের।বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে উঠে।ভোলার( কুকুর) কথা মনে আসে।ঘরের কাছে গিয়ে দেখে পোঁড়া ঘরে দরজার কাছটায় মরে পড়ে আছে তার ভোলা।
গরু-ছাগলের।কুকুরের।মানুষের।বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে উঠে।ভোলার( কুকুর) কথা মনে আসে।ঘরের কাছে গিয়ে দেখে পোঁড়া ঘরে দরজার কাছটায় মরে পড়ে আছে তার ভোলা।
রহিমা খালা মেহেরুর হাত ধরে টানছে।ছুটছে ওরা। একটু আশ্রয়ের আশায়।নদী পার হতে পারলে নাকি ঠাঁই পাওয়া যাবে।কালো মেঘগুলো হতে অবিরল ধারায় বৃষ্টি নেমেছে।ভিজে যাচ্ছে পথ ঘাট,অসহায় মানুষগুলো ছুটছে। অবিরল বৃষ্টির ধারা বাড়িয়ে দিচ্ছে তাদের অসহায়ত্বকে।অগনিত মানুষ তাদের এই অসহায়ত্বকে পায়ে ঠেলে সামনে এগিয়ে চলছে।বেশির ভাগ নারী,মধ্যবয়সী, শিশু।ওরা পালাচ্ছে।
ছুটছে তো ছুটছে।রহিমা খালা আর হাঁটতে পারছে না। রাস্তায় দুবার পড়ে গেছে।
রাত নেমে এসেছে।মেহেরুর সন্তান ক্ষুধার জ্বালায় সন্তর্পণে চিৎকার করছে।নাজাত কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেছে।মেহেরুর মনে হচ্ছে জীবনের পথ এখানেই থেমে গেছে।
হঠাৎ একসঙ্গে অনেক মানুষের আত্মচিৎকার। হেলিকাপ্টার থেকে আকস্মিক বোম পড়ছে।বাজছে মৃত্যুর পদধ্বনি।
হঠাৎ একসঙ্গে অনেক মানুষের আত্মচিৎকার। হেলিকাপ্টার থেকে আকস্মিক বোম পড়ছে।বাজছে মৃত্যুর পদধ্বনি।
আতঙ্কিত সবাই এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে।ভোরের আলো ফুটছে।মেহেরু হারিয়ে ফেলেছে রহিমা খালা আর নাজাতকে।
চোখের সামনে এদিক সেদিক শুধু মানুষের লাশ আর লাশ।তবুও মেহেরু বেলালকে বুকে নিয়ে এগিয়ে চলছে।
চোখের সামনে এদিক সেদিক শুধু মানুষের লাশ আর লাশ।তবুও মেহেরু বেলালকে বুকে নিয়ে এগিয়ে চলছে।
চেনামুখগুলো ভাসছে,বাবা।মা।রাজিন।নাজাত।রহিমা খালা।অন্তঃসত্ত্বা কুকুর।
বেলাল কাঁদছে।
শেষরক্ষাটা আর হয়নি।অনেক মানুষ পার হয়েছে নদী।নদীর অপারের গল্পটা জানতে পারে নি আর কেউ।মেহেরু নদী পার হতে পারিনি।পার হবার আগেই মেহেরু পার হয়ে গেছে জীবনের বহমান নদী।মেহেরু ঘুমিয়ে গেছে চিরদিনের জন্য।চলে গেছে চিরপ্রশান্তির দেশে।যেখানে আর কেউ আলাদা করতে পারবে না রাজিন থেকে।ওরা মেহেরুকে পেছন থেকে গুলি করে।মেহেরু শুয়ে আছে। তার বুকের উপর বেলাল কাঁদছে।কাঁদতে কাঁদতে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে খুঁজে নিচ্ছে মায়ের বুক থেকে খাবার।আযান হচ্ছে পৃথিবীর কোথাও।যেখানে মানুষ নামাযের জন্য দাঁড়াতে পারে, যেখানে কোন প্রাণী মারা গেলে আন্দোলনের জোয়ার উঠে,যেখানে মানুষ বেঁচে থাকে মানুষের মত মানুষ হয়ে।
